পিতা-মাতার মৃত্যুর পর সন্তানের করণীয়

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম: মা-বাবা একদিন আমাদের ছেড়ে, পৃথিবীর মায়া মমতা ছেড়ে চলে যায়। মৃত্যুর পর তাদের জন্য আমাদের অনেক কিছু করণীয় আছে। তাদের জন্যে বেশী বেশী দু‘আ করা, আল্লাহ নিজে সেই দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন : ‘রব্বিরহামহুমা কামা রব্বায়ানী সগীরা’ হে আমার রব, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন (বনী ইসরাঈল-২৪) হে আমাদের রব, রোজ কিয়ামতে আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করে দিন। (সুরা ইবরাহীম-৪১) দান-ছাদকাহ করা: যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল এমতাবস্থায় যে তার উপর রোজা ওয়াজিব ছিল। তবে তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিসগণ রোজা রাখবে (সহীহ বুখারী-১৯৫২)

জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আগমণ করে তার মৃত মায়ের পক্ষে হজ্জ আদায় করার বিষয়ে জানতে চাইলে রাসুল (সাঃ) বললেন, তুমি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে হজ্জ কর। (সহীহ বুখারী-১৮৫২) মা-বাবার পক্ষ থেকে যে লোক হজ্জ বা ওমরাহ করতে চায় তার জন্য শর্ত হলো সে আগে নিজের হজ্জ-ওমরাহ করবে। মা-বাবার পক্ষে কুরবানী করলে তার ছাওয়াব দ্বারা তারা উপকৃত হবে। রাশীদ ইবন সুয়াইদ আসসাকাফী বললেন হে রাসুল (সাঃ) আমার মা একজন দাসমুক্ত করার জন্য ওসিয়ত করে গেছেন। আল্লাহর রাসুল বললেন, দাস মুক্ত করে দাও। (সহীহ ইবন হিববান-১৮৯)। রাসুল (সাঃ) বলেন পুত্রের জন্য পিতার বন্ধু-বান্ধবের সাথে ভাল ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় সওয়াবের কাজ (সহীহ মুসলিম-৬৬৭৭)

রাসুল (সাঃ) বলেছেন; যে ব্যক্তি তার পিতার সাথে কবরে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে ভালবাসে, সে যেন পিতার মৃত্যুর পর তার ভাইদের সাথে সুসম্পর্ক রাখে (সহীহ ইবন হিববান-৪৩২)। রাসুল (সাঃ) বলেছেন মুমিন ব্যক্তির আত্মা তার ঋণের সাথে সম্পৃক্ত থেকে যায়; যতক্ষণ না তা তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হয়। (সুনান ইবন মাজাহ:২৪১৩)। মা-বাবার কোন শপথের কাফফারা, ভুলকৃত হত্যাসহ কোন কাফফারা বাকী থাকলে সন্তান তা পূরণ করবে। এছাড়াও ক্ষমা প্রার্থনা করা। সন্তান মা-বাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। মা-বাবার ভাল কাজসমূহ জারী রাখা, ওয়াদা করে গেলে তা বাস্তবায়ন করা, কবর যিয়ারত করা, কোন গুনাহের কাজ করে গেলে তা বন্ধ করা। সর্বোপরি আল্লাহর নিকট তাদের মাগফেরাত-ক্ষমার জন্য দোয়া করা।

SHARE