রফতানিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখবে আইসিটি

সিমেক ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ভবিষ্যতে আইসিটি খাতই দেশের রফতানিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তিনি যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ উদ্ভোধনকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে প্রায় ১২ হাজার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে আমাদের উৎপাদিত পণ্য ভবিষ্যতে আমাদের রফতানিতে সব থেকে বড় অবদান রাখবে। কাজেই আমাদের ছেলে-মেয়েদের সেভাবেই আমরা প্রশিক্ষণ দিতে চাই।’

উন্নয়নের ছোঁয়াকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়াই তাঁর সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক জেলাতে আমরা একটা করে হাইটেক পার্ক করে দেবো।’ সরকার আশা করছে, ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি খাতের আয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে এবং জিডিপিতে সফ্টওয়্যার ও আইসিটি সেবাখাতের অবদান ৫ শতাংশে উন্নীত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে, মানুষ তখন কম্পিউটার ব্যবহার করতেন না। কেউ কেউ শখ করে কম্পিউটার কিনলেও শোপিসের মতো সাজিয়ে রাখতেন আর ব্যবহার করতেন টাইপরাইটার মেশিন হিসেবে। তিনিই ছাত্রদের হাতে কম্পিউটার তুলে দিয়ে এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে যাত্রা আমরা শুরু করেছিলাম ২০০৮এর নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সেটা কিন্তু আমরা করে ফেলেছি। প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে তারা কেউ আর ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে পারবে না। কারণ তখন বিদ্যুত সঙ্কটের জন্য বিদ্যুত চলে গেলে আমাদের প্রতিপক্ষ (বিএনপি) বলে উঠত, ঐতো ডিজিটাল বিদ্যুত গেল। এখন আর কেউ ঠাট্টা-তামাশা করে না, সবাই অন্তত ব্যবহার করে।

সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই পার্কের মূল ভবনে প্রায় ৫৫টি কোম্পানিকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের দু’টি কোম্পানিও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর অংশ হিসেবে কোম্পানি চালু করতে বিনামূল্যে তরুণদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, খুলনা বিভাগের দশটি জেলাকে টার্গেট করে যশোরে এই সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্কটি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে দেশী ও বিদেশী আইটি শিল্প প্রতিষ্ঠান এই পার্কে বিনিয়োগ করতে পারবে। এই পার্কে সফটওয়্যার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, কলসেন্টার, গবেষণা এবং উন্নয়ন কাজ করা যাবে।

প্রকল্পের সার্ভে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে ২০১০ সালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করার সময়ে যশোরে আন্তর্জাতিক মানের একটি আইটি পার্ক স্থাপন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তাঁর এই ঘোষণার আলোকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে শহরের শংকরপুর এলাকায় বেপজায় আইটি পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এটি নির্মাণে ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পার্কে ১৫তলা এমটিবি ভবন, ১২তলা বিশিষ্ট ফাইভ স্টার মানের ডরমেটরি ভবন, রাষ্ট্র পরিচালিত আর্ট কনভেনশন সেন্টার এবং আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কসহ সকল প্রকার আধুনিক সুবিধাসংলিত প্রায় ২.৩২ লাখ বর্গফুট স্পেস থাকবে। প্রতিটি ফ্লোরে ১৪ হাজার বর্গফুট স্পেস থাকবে।

জাপানি ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী ডরমেটরি ভবনের ১১তলা আন্তর্জাতিক মানের জিম করা হয়েছে। পুরো ভবনটি নির্মিত হয়েছে ভূমিকম্প প্রতিরোধে সক্ষম নির্মাণ কাঠামো দিয়ে। পাশাপাশি আইটি পার্কে একটি ৩৩ কেভিএ পাওয়ার সাবস্টেশন থাকবে। গত ৫ অক্টোবর এই পার্কে একটি আইটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৩০টি আইটি ফার্ম অংশ নেয়।

SHARE