মেগা প্রকল্পে ভাসছে চট্টগ্রাম

সিমেক ডেস্কঃ চট্টগ্রামের উন্নয়নে তথা দেশের স্বার্থে বর্তমান সরকার প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার পর ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্প চট্টগ্রাম মহানগরী, মীরসরাই, আনোয়ারা, মহেশখালী হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। এত বিপুল অর্থের বিপরীতে প্রকল্পসমূহের সঠিক বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের চেহারা যেমন পাল্টে যাবে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা। এ আশাবাদ বিশেষজ্ঞ মহলসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য সর্বশেষ পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার যে তিনটি মেগা প্রকল্প অতিসম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে, তা মূলত ইতোমধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া খালসমূহের পুনঃখনন, সংস্কার ও উন্নয়নকাজে ব্যয় হবে নগরীতে ভয়াবহ জলজট পরিস্থিতি দূরীকরণে। কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (চউক)। সংস্থার চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে চট্টগ্রামের ভয়াবহ জলজট পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে সরকারী উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য ইতিবাচক আর দেশ ও চট্টগ্রামের জন্য মঙ্গলজনক। মহানগরীর ৪২টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল বহু আগে থেকেই ভরাট এবং এগুলোর দু’পাড় অবৈধ দখলদারদের দখলদারিত্বে চলে গেছে। চসিক ইতোমধ্যে অবৈধ দখল উচ্ছেদ শুরু করেছে। চউক বলেছে, যারা নির্মাণকাজের অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে দালানকোঠা গড়ে তুলেছে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হবে। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরায় খনন করে এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো সংস্কার করা হবে এসব মেগা প্রকল্পের আওতায়।

অপরদিকে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের আরেক মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে এলএনজি ও তাপবিদ্যুত উৎপাদন প্রকল্প, মীরসরাই ও আনোয়ারায় বিশেষায়িত অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ এ সরকারের উন্নয়নকাজের একেকটি বড় মাইলফলক।

বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানানো হয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বরাবরই চট্টগ্রামে পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহী। আর এ কারণেই সরকার চট্টগ্রামকেন্দ্রিক বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে। আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে টেকনাফের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন প্রতিষ্ঠায় ভূমি অধিগ্রহণের কাজও এগিয়ে চলেছে। এ রেললাইন মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্তি ঘটাবে। মিয়ানমার হয়ে এ যোগাযোগ ব্যবস্থা যাবে সুদূর চীন পর্যন্ত, যা আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল উন্নয়ন সাধন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

SHARE